Monday, September 1, 2014

Mexican Leandra is the oldest human in the world


A Mexican woman has become the oldest person in the world as she has reached the grand old age of 127. But she claimed that she lost her birth certificate four decades ago. 

 - See more at: http://www.famousnewsbd.com/exclusive/articles/3512

Tuesday, July 26, 2011

স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল এফ আর খান

F. R.  Khan (Jr.)



ফটোগ্রাফার গোলাম বারী ইউনূসকে নিয়ে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে গেলাম বনানীতে এবিসি লিমিটেডের করপোরেট অফিস-  এবিসি হাউসে। সাত তলায় বসেন তিনি। এক সময় নাটক সিনেমায় শহরের ভবন দেখাতে এবিসির এ ভবনটিকেই দেখানো হতো। তখনকার সময়ে এবিসি নির্মিত এ ভবনটিই ছিল কামাল আতার্তুক এভিনিউয়ের একমাত্র হাইরাইজ ভবন। এ ভবনের টপ ফ্লোরে স্ড়্গাইরম্নম রেস্টুরেন্ট বেশ জনপ্রিয়। লিফটে চড়লাম। এবিসি-র রিসেপশন থেকে গেস্টরম্নমে বসতে দেয়া হলো। কিছুড়্গণের মধ্যেই এলেন ঘরবাড়ী’র প্রধান সম্পাদক। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কড়্গে দু-তিন জন অতিথি ছিলেন। গেট পর্যন্ত তাদেরকে এগিয়ে দিলেন তিনি। আন্তরিকতার পূর্ণ ব্যবহার। এবারে আমন্ত্রণ জানালেন আমাদের। মুখোমুখি বসলাম বিশ্বখ্যাত স্থপতি ফজলুর রহমান খানের ভ্রাতুষ্পুত্র এফ আর খানের (জুনিয়র) সামনে। চাচা ফজলুর রহমান খানের কথা আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে এদেশের মানুষ। আন্তôর্জাতিক অঙ্গনে তার নাম এখনো উজ্জ্বল। তারই ভ্রাতুষ্পুত্র ফয়েজুর রহমান খান।
ফয়েজুর রহমান খান অর্থাৎ প্রকৌশলী এফ আর খানের জন্ম রাজধানী ঢাকাতেই। ১৯৫৫ সালের ২৯ মে। বাবা এম আর খান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন। মা কথাশিল্পী রাজিয়া মাহবুব। ১৯৭০ সালে সেন্ট্রাল গভ· হাই স্ড়্গুল থেকে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। এরপর ’৭২-এ নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭-  বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি। মাস্টার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং-   এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। জাপান  থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন-এর ওপর পোস্ট মাস্টার্স সার্টিফিকেট কোর্স করেছেন ১৯৮১-১৯৮২ সালে। এছাড়া জাপান থেকেই ২০০৪ সালে টপ ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেছেন তিনি।
এফ আর খানের কড়্গে মৃদুস্বরে বাজছিল রবীন্দ্রসঙ্গীত। সঙ্গীত পছন্দ করেন তিনি। আশ্চর্য হই। মানুষটি সম্পর্কে কি ধারণাই না করেছিলাম! বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ফটোগ্রাফার ইউনূস তার ক্যামেরা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা ব্যস্তô আলাপচারিতায়।
একজন প্রকৌশলীর কাছে ভূমিকম্প বিষয়ক একটি প্রশ্ন না করলে যেন অপরিপূর্ণতা রয়ে যায়। সে ধারাবাহিকতায় ভূমিকম্প বিষয়ে জানতে চাওয়া। আশ্চর্য হই তার উত্তর শুনে! ভূমিকম্প বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প হচ্ছে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। মানুষ হিসেবে আমরা এটা রোধ করতে পারব না। আমি অন্ততপড়্গে এ বিষয়ে কোনো গ্যারান্টি দিই না। এটা সম্পূর্ণই সৃষ্টিকর্তার ইশারা। তবে আমার সুপারভিশনে যথাযথ বিল্ডিং কোড আর ভূমিকম্পবিষয়ক রীতিনীতি মেনে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করি। এখানে কোনো গ্যাপ থাকে না।’ 
অন্যরা যেখানে ভূমিকম্প বিষয়ে নিজেদের নির্মাণকর্মের গুণগান গেয়ে চলেন, সেখানে এফ আর খানের এ ভাবনাই তাকে আলাদা করে রাখে, অন্যদের থেকে। সত্যিই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল তিনি।
কাজ পছন্দ করেন ফয়েজুর রহমান খান। রম্নচিসম্মত পেশাদারি মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলেন সামনের দিকে। প্রায় ৩৩ বছর ধরে নির্মাণ কাজে জড়িত। সুনামের সাথে কাজ করেছেন বহু প্রতিষ্ঠানে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত দেশে-বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। দেশের সনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডে যোগ দেন ১৯৮৫-তে। দু বছর কাজ করেন সেখানে। এরপর ’৮৮-’৯০ পর্যন্ত প্রাণ গ্রম্নপের প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডে। ১৯৯০ সালে যোগ দেন বিটিআই-তে। সেখানে ২০০৫ সাল পর্যন্ত। এরপর যোগ দেন অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিং লিমিটেডে।

কর্মজীবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কনস্ট্রাকশন কাজে নিষ্ঠার সাথে কাজে ডুবে থাকেন তিনি। এ পর্যন্ত নিজের সুভারভিশনে প্রায় ৫৫০০ ফ্ল্যাট সুনামের সাথে হস্তন্তর করেছেন গ্রাহকদের কাছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ছাড়িয়ে নিজের একক ইমেজ তৈরি করে পরিচিতি লাভ করেছেন গ্রাহকদের কাছে। ফেসবুক-ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছে অসংখ্য ক্রেতার নাম।
গ্রাহকদের সাথে তার সম্পর্ক কেমন? তিনি জানান, ক্রেতাসাধারণের সাথে তার সম্পর্ক সুমধুর। কেননা, তাদের সন্তুষ্টিই তার প্রাপ্তি। প্রায়ই ফোন পান ক্রেতাদের কাছ থেকে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, অনেক সময় চিনতেই পারেন না কোন প্রজেক্টের কোন ক্রেতার ফোন। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার, অনেক পুরনো ক্রেতারা আজও ফোন করে তাকে শুভেচ্ছা জানান, ভালোবাসা জানান। এটাকেই তার বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি। আর এটা তাকে অর্জন করতে হয়েছে কাজের মধ্যদিয়ে। তার সুপারভিশনে নির্মিত প্রতিটি প্রজেক্ট উদ্বোধনে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করেন তিনি। এছাড়া হস্তôান্তôরকৃত প্রতিটি প্রজেক্টে দু-তিন মাস পর্যন্ত খোঁজ নেয়াটা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। ফলে ক্রেতাগণও তাকে ভুলতে পারেন না।
কফি এলো আমাদের জন্য। কফিতে চুমুক দিতে দিতে আলাপচারিতা এগিয়ে যায়।
হেরিটেজের গুরম্নত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের ভবনগুলোর মধ্যে হেরিটেজ অনুপস্থিত। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, স্পেনেও হেরিটেজের ছোঁয়া বজায় রেখে ভবনের কথা উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বাইরে হেরিটেজের ছোঁয়া রেখে ভেতরে আধুনিক সুযোগসুবিধা সম্বলিত ভবন তৈরি করা যেতে পারে।
বর্তমানের আবাসন খাতের অবস্থা খুব বেশি ভালো নয় উলেস্নখ করে তিনি বলেন, এ সেক্টরে রাজধানীর গুলশান-বনানী-ধানমন্ডির ওপর থেকে ফোকাস বন্ধ করতে হবে আগে। সর্বোপরি রাজধানীর ওপর থেকে ফোকাস বন্ধ করে রাজধানীর বাইরেও এ শিল্পকে চাঙ্গা করতে হবে।
ইউনূস যেন তার মনের মতো ছবি পাচ্ছিলেন না। ক্যামেরা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তখনও। রবীন্দ্রসঙ্গীত শেষ হয়ে সুমনের গান ভেসে আসছে মিউজিক পেস্নয়ার থেকে।
চাচা ফজলুর রহমান খানের সাথে মিল-অমিলের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, চাচার সাথে তার মিলটাই বেশি। দুজনের জীবনের চিন্তôাধারা, পারিবারিক সম্পর্ক আর সংস্ড়্গৃতিচর্চা একই। জীবনকে উপভোগ করতে ভালোবাসতেন চাচা। তার মধ্যেও সে বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তবে অমিলের কথায় তিনি জানান, চাচা যতটা বাস্তôববাদী ছিলেন ততটা তিনি নন। তিনি চাচার চেয়ে একটু বেশি আবেগী। 





F. R.  Khan (Jr.)






বর্তমানে এবিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক

 
২০১০ সালের নভেম্বরে এবিসি পরিবারে যুক্ত হন এফ আর খান। ১৯৭২ সালে এবিসি লিমিটেডের যাত্রা শুরম্ন। মূলত কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান হলেও এর ব্যাপকতা আরো ছড়িয়ে পড়ে ভিন্ন আমেজে। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবিসি রিয়েল এস্টেট লিমিটেড। ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলনামূলকভাবে পাবলিক সেক্টরে খুব বেশি কাজ করেনি এবিসি।
প্রাইভেট সেক্টরে তাদের কার্যক্রম বেশ উজ্জ্বল। নীতিগত আদর্শের কারণেই এবিসি পাবলিক
সেক্টরে ব্যাপক বিস্তôার লাভ করেনি। তবে হস্তôান্তôরকৃত তাদের বিভিন্ন প্রজেক্টগুলো কিন্তু দাবি রাখে, এদেশের নির্মাণজগতে এবিসি-র পথচলা হোক আরো সুদূরপ্রসারী।  সে দাবিকে আরো সোচ্চার করে বাস্তôবে রূপ দিতেই যেন জনাব এফ আর খান যোগ দিলেন এবিসিতে।
মানসম্মত ভবন নির্মাণে এবিসি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ক্রেতা সন্তুষ্টির দিকে নজর রাখা হয় সচেতনভাবেই। এবিসি নির্মিত বিভিন্ন ভবনের মধ্যে এবিসি হেরিটেজ, এসএমসি টাওয়ার, গ্রামীণফোন ভবন, জীবন বীমা ভবন, ন্যাম অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি বিল্ডিং উলেস্নখযোগ্য। এছাড়া বিএসআরএম স্টিল মিল, সিমেক্স সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, পিএইচপি’সহ অসংখ্য ফ্যাক্টরি ভবন নির্মাণের সফল এবিসি। সুনামের সাথে বহু ফ্ল্যাটের হস্তôান্তôর এবিসি-র সুনামকে আরো বৃদ্ধি করেছে। বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা, শ্যামলী, মিরপুরে বহু অ্যাপার্টমেন্ট হস্তôান্তôর করেছে তারা। বর্তমানে হাতে রয়েছে বেশ কিছু প্রজেক্ট। এর মধ্যে বসুন্ধরা, গুলশান, বনানী, ইস্ড়্গাটন ও উত্তরায় রয়েছে বেশ কিছু প্রজেক্ট। নতুন করে এফ আর খানের ব্যবস্থাপনায় আবাসন খাতে এবিসির কার্যক্রমকে ছড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।  
 



দুই ব্র্যান্ডের মিলন যেন! 

 
একজন এফ আর খান, অন্যটি এবিসি-  দুটি ব্র্যান্ডই পরিচিত এদেশের নির্মাণ জগতে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এবিসি ও এর আবাসন খাতের কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নিতে এফ আর খানের চিন্তôাধারা এরই মধ্যে এগিয়ে যেতে শুরম্ন করেছে। ছক করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অফিসে চলছে নতুন ডেকোরেশনের কাজ। এরই মধ্যে এবিসির ব্যানারে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন প্রজেক্ট। একটু বড় প্রজেক্টের দিকেই তাদের লড়্গ্য। প্রকৌশলী এফ আর খানের ছোঁয়া আর এবিসি-র কনস্ট্রাকশন কাজের সুনাম একাকার হয়ে এ শিল্পে ভালো কিছু আশা করতেই পারে ক্রেতাসাধারণ।
আলাপচারিতা তখন শেষের পর্যায়ে। এবিসি নিয়ে তার কার্যক্রম জানতে চাই।
আবাসন খাতে এবিসির কার্যক্রমকে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজাতে চান এফ আর খান। এবিসির ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলোকেও ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি করাতে তার চেষ্টা অব্যাহত থাকছে। আর এড়্গেত্রেও তিনি সফলতার স্বাড়্গর রাখবেন- প্রত্যাশা এমনই।
এফ আর খান চাচা ফজলুর রহমান খানের ছায়া যেন! পেশাদার প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ। আস্থা রাখা যায় অনায়াসেই। আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের কাজ করে যান নীরবে। অবশ্য সেসব কাজের প্রতিফলন একসময় আর নীরব থাকে না। নিজের কাজ নিয়ে বাগাড়ম্বর ভাব নেই। অহংকার নেই কিন্তু কাজে আছে সফলতা। আর এসব কারণেই তিনি এফ আর খান-  অন্যদের থেকে আলাদা।
স্বনামধন্য একজন প্রকৌশলী ও রিয়েল এস্টেট ডেভলপার হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও চমৎকার বিনয়ী এই ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হতে পেরে ভালো লাগল।
ধন্যবাদ জানিয়ে নেমে পড়ি রাজধানীর রাস্তôায়।

Thursday, March 10, 2011

RICHTER SCALE OF EARTHQUAKE


 
ভূমিকম্পের মাত্রা মাপি রিখটার স্কেলে

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। মাত্রাভেদে ভূকম্পনের শক্তি এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও ভিন্ন। ভূকম্পনের এই মাত্রা নির্ধারণে রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়। চার্লস রিখটারের রিখটার স্কেল উদ্‌ভাবনের পর থেকে বিজ্ঞান এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ভূকম্পনের স্থান, কাল ও কম্পনের শক্তি নির্ধারণ করা এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। চলুন জেনে নিই রিখটার স্কেল সম্পর্কিত কিছু তথ্য-
 

চার্লস রিখটারের ‘রিখটার ম্যাগনেচিউড স্কেল’
বিজ্ঞানী চার্লস রিখটারের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় রিখটার ম্যাগনেচিউড স্কেল। এর মাধ্যমেই ভূমিকম্পের ফলে যে শক্তি অবমুক্ত হয় তা পরিমাপ করা হয়। একে লোকাল ম্যাগনেচিউড স্কেলও বলা হয়। এটি বেস-১০ লগারিদম স্ড়্গেল। ১৯৩৫ সালে চার্লস এই স্কেলের উদ্‌ভাবন করেন। সহযোগী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন বেনো গুটেনবার্গ। দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউড অব টেকনোলজির বিজ্ঞানী। রিখটার স্কেলের ওপর ভিত্তি করে ১৯৭৯ সালে উদ্‌ভাবন করা হয় মোমেন্টস ম্যাগনেচিউড স্কেল। চার্লস রিখটার মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৫ সালে।


বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্প
মাত্রাঃ ২·০
সাধারণত যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া এই মাত্রার ভূমিকম্পের অনুভব করা যায় না। প্রতিদিন রিখটার ম্যাগনেচিউড স্কেলে ২·০ মাত্রার নিচে ভূমিকম্প হচ্ছে কমপক্ষে আট হাজার-  এটা হচ্ছে মাইক্রো আর্থকোয়েক।

মাত্রাঃ ২·০- ২·৯
২·০ থেকে ২·৯ মাত্রার ভূমিকম্প রিখটার স্কেলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভূমিকম্প হচ্ছে। এটাও অনুভব করা যায় না। যন্ত্রের সাহায্যে রেকর্ড করা যায়।

মাত্রাঃ ৩·০-৩·৯
এই মাত্রার ভূমিকম্প আগের দুটির মতো নয়। রিখটার স্কেলে ৩·০-৩·৯ মাত্রার ভূমিকম্প কিছুটা অনুভব করা যায়। এই মাত্রার ভূমিকম্প হলে এতে কদাচিৎ ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে এই মাপের ভূমিকম্প হয়ে থাকে প্রায় ৪৯ হাজার।

মাত্রাঃ ৪·০-৪·৯
এই মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে বছরে প্রায় ৬ হাজার। রিখটার স্কেলে ৪·০-৪·৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সাধারণত এতে তেমন বিশেষ কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় না। তবে এই মাত্রায় কম্পনটি বেশ অনুভব করা যায়। ঘরের জিনিসপত্র কাঁপতে থাকে ঝনঝনিয়ে।

মাত্রাঃ ৫·০-৫·৯
রিখটার স্কেলে ৫·০-৫·৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কিছু ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। এই মাত্রার ভূমিকম্প বছরে গড়ে প্রায় ৮০০টি হয়ে থাকে। আর এতে দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাত্রাঃ ৬·০-৬·৯
এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে প্রায় ১২০টি ভূমিকম্প হয়ে থাকে এই মাত্রায়। রিখটার ক্ষেলে ৬·০-৬·৯ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে জনবহুল এক শ ষাট কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।

মাত্রাঃ ৭·০-৭·৯
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এই মাত্রায়। রিখটার স্কেলে ৭·০-৭·৯ মাত্রার ভূমিকম্প বছরে গড়ে প্রায় ১৮টি হয়ে থাকে। বিশাল এলাকাজুড়ে এতে ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞের সম্ভাবনা রয়েছে।

মাত্রাঃ ৮·০-৮·৯
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় এই মাত্রার ভূমিকম্পে। রিখটার স্কেলে ৮·০-৮·৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটতে পারে বছরে একটি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক হয়ে থাকে। কেননা, এই মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মাইল এলাকাজুড়ে  ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন হতে হয়।

মাত্রাঃ ৯·০-৯·৯
রিখটার স্কেলে যখন ভূমিকম্পের মাত্রা ৯·০-৯·৯ হয়ে থাকে তখন এর ভয়বহতা ব্যাপক। সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্প ২০ বছরে একবার হতে পারে। আর ধ্বংসযজ্ঞের এরিয়া ছড়িয়ে যায় অনেকখানি। হাজার হাজার মাইলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।

মাত্রাঃ ১০·০ বা তার অধিক
এখনও এই মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়নি।
তবে এ ধরণের ঘটনা ঘটতেও পারে। ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ১০·০ বা তার উপরে থাকবে তখন এর ধ্বংসযজ্ঞ ধারণা করাও কঠিন। ভয়াবহ কোনও রূপ নিতে পারে তা।

মাত্রাভেদে ভূমিকম্প
মাইনর ভূমিকম্পঃ ২·০-৩·৯ মাত্রা
লাইট ভূমিকম্পঃ ৪·০-৪·৯ মাত্রা
মডারেট ভূমিকম্পঃ ৫·০-৫·৯ মাত্রা
স্ট্রং ভূমিকম্পঃ ৬·০-৬·৯ মাত্রা
মেজর ভূমিকম্পঃ ৭·০-৭·৯ মাত্রা গ্রেট ভূমিকম্পঃ ৮·০-৯·৯ মাত্রা
এপিক ভূমিকম্পঃ ১০·০ বা তার অধিক
বিভিন্ন মাত্রায় ভূমিকম্পে সৃষ্ট শক্তি




* রিখটার পরিমাপ ০·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ কিলোগ্রাম - যা বড় হ্যানড গ্রেনেড সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ১·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ কিলোগ্রাম-  যা নির্মাণস্থলে বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ১·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ কিলোগ্রাম - যা বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ২·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ মেট্রিক টন - যা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ৩·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ মেট্রিক টন - চেরনোবিল বিস্ফোরণ, ১৯৮৬।
* রিখটার পরিমাপ ৪·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ কিলোটন -  ছোট পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ৫·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ কিলোটন -  নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা, ১৯৪৫।    * রিখটার পরিমাপ ৬·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ মেগাটন -  ডাবল স্প্রিংফ্লাট ভূমিকম্প, ১৯৯৪।
* রিখটার পরিমাপ ৭·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ মেগাটন - জাভা ভূমিকম্প, ২০০৯।
* রিখটার পরিমাপ ৭·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ মেগাটন - কাশ্মির ভূমিকম্প, ২০০৫।
* রিখটার পরিমাপ ৮·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ গিগাটন - সানফ্রান্সিসকো ভূমিকম্প, ১৯০৬।
* রিখটার পরিমাপ ৮·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ গিগাটন - সুমাত্রা ভূমিকম্প, ২০০৭।
* রিখটার পরিমাপ ৯·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ গিগাটন -  লিসবোয়া ভূমিকম্প, ১৭৫৫।
* রিখটার পরিমাপ ৯·৩ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১১৪·০ গিগাটন -  ভারত মহাসাগর ভূমিকম্প, ২০০৪।
* রিখটার পরিমাপ ৯·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ গিগাটন -  চিলি ভূমিকম্প, ১৯৬০।
* রিখটার পরিমাপ ১০·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ টেরাটন - যা এখনও কোথাও ঘটেনি।
ভূকম্পন মাপতে রিখটার স্ড়্গেল-উদ্‌ভাবক বিজ্ঞানী চার্লস রিখটার তার জীবদ্দশায় সারা পৃথিবীজুড়ে ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করেছেন। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি এবং ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে নানা রকম প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। আমাদের দেশেও মাত্র কিছুদিন পূর্বে ঘটে গেল ছোট মাপের ভূকম্পন। আর ছোট মাত্রার ভূমিকম্প নাকি বড় ধরনের ভূমিকম্পেরই আশঙ্কা। তবে ছোট হোক বড় হোক আগাম প্রস্তুতি থাকা দরকার সবার।

Wednesday, March 9, 2011

RICHTER SCALE OF EARTHQUAKE

ভূমিকম্পের মাত্রা মাপি রিখটার স্কেলে

বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। মাত্রাভেদে ভূকম্পনের শক্তি এবং ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনাও ভিন্ন। ভূকম্পনের এই মাত্রা নির্ধারণে রিখটার স্কেল ব্যবহার করা হয়। চার্লস রিখটারের রিখটার স্কেল উদ্ভাবনের পর থেকে বিজ্ঞান এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ভূকম্পনের স্থান, কাল ও কম্পনের শক্তি নির্ধারণ করা এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। চলুন জেনে নিই রিখটার স্কেল সম্পর্কিত কিছু তথ্য- 



চার্লস রিখটারের ‘রিখটার ম্যাগনেচিউড স্কেল’
বিজ্ঞানী চার্লস রিখটারের নামানুসারে এর নাম রাখা হয় রিখটার ম্যাগনেচিউড
স্কেল। এর মাধ্যমেই ভূমিকম্পের ফলে যে শক্তি অবমুক্ত হয় তা পরিমাপ করা হয়। একে লোকাল ম্যাগনেচিউড স্কেলও বলা হয়। এটি বেস-১০ লগারিদম স্কেল। ১৯৩৫ সালে চার্লস এই স্কেলের উদ্‌ভাবন করেন। সহযোগী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন বেনো গুটেনবার্গ। দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউড অব টেকনোলজির বিজ্ঞানী। রিখটার স্কেলের ওপর ভিত্তি করে ১৯৭৯ সালে উদ্‌ভাবন করা হয় মোমেন্টস ম্যাগনেচিউড স্কেল। চার্লস রিখটার মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৫ সালে।

বিভিন্ন মাত্রার ভূমিকম্প
মাত্রাঃ ২·০
সাধারণত যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া এই মাত্রার ভূমিকম্পের অনুভব করা যায় না। প্রতিদিন রিখটার ম্যাগনেচিউড
স্কেলে ২·০ মাত্রার নিচে ভূমিকম্প হচ্ছে কমপক্ষে আট হাজার-  এটা হচ্ছে মাইক্রো আর্থকোয়েক।

মাত্রাঃ ২·০- ২·৯
২·০ থেকে ২·৯ মাত্রার ভূমিকম্প রিখটার স্ড়্গেলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ভূমিকম্প হচ্ছে। এটাও অনুভব করা যায় না। যন্ত্রের সাহায্যে রেকর্ড করা যায়।


মাত্রাঃ ৩·০-৩·৯
এই মাত্রার ভূমিকম্প আগের দুটির মতো নয়। রিখটার
স্কেলে ৩·০-৩·৯ মাত্রার ভূমিকম্প কিছুটা অনুভব করা যায়। এই মাত্রার ভূমিকম্প হলে এতে কদাচিৎ ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে এই মাপের ভূমিকম্প হয়ে থাকে প্রায় ৪৯ হাজার।

মাত্রাঃ ৪·০-৪·৯
এই মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে বছরে প্রায় ৬ হাজার। রিখটার
স্কেলে ৪·০-৪·৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে সাধারণত এতে তেমন বিশেষ কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় না। তবে এই মাত্রায় কম্পনটি বেশ অনুভব করা যায়। ঘরের জিনিসপত্র কাঁপতে থাকে ঝনঝনিয়ে।

মাত্রাঃ ৫·০-৫·৯
রিখটার
স্কেলে ৫·০-৫·৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কিছু ড়্গয়ড়্গতির সম্ভাবনা থাকে। এই মাত্রার ভূমিকম্প বছরে গড়ে প্রায় ৮০০টি হয়ে থাকে। আর এতে দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মাত্রাঃ ৬·০-৬·৯ 

এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে প্রায় ১২০টি ভূমিকম্প হয়ে থাকে এই মাত্রায়। রিখটার স্ড়্গেলে ৬·০-৬·৯ মাত্রায় ভূমিকম্প হলে জনবহুল এক শ ষাট কিলোমিটার এলাকা পর্যন্তô ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।
মাত্রাঃ ৭·০-৭·৯
ব্যাপক ড়্গয়ড়্গতির সম্্‌ভাবনা রয়েছে এই মাত্রায়। রিখটার স্ড়্গেলে ৭·০-৭·৯ মাত্রার ভূমিকম্প বছরে গড়ে প্রায় ১৮টি হয়ে থাকে। বিশাল এলাকাজুড়ে এতে ড়্গয়ড়্গতি ও ধ্বংসযজ্ঞের সম্্‌ভাবনা রয়েছে।
মাত্রাঃ ৮·০-৮·৯
ভয়াবহ ড়্গয়ড়্গতির সম্মুখীন হতে হয় এই মাত্রার ভূমিকম্পে। রিখটার স্ড়্গেলে ৮·০-৮·৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটতে পারে বছরে একটি। তবে ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ ব্যাপক হয়ে থাকে। কেননা, এই মাত্রার ভূমিকম্পে শত শত মাইল এলাকাজুড়ে  ধ্বংসযজ্ঞের সম্মুখীন হতে হয়।
মাত্রাঃ ৯·০-৯·৯
রিখটার স্ড়্গেলে যখন ভূমিকম্পের মাত্রা ৯·০-৯·৯ হয়ে থাকে তখন এর ভয়বহতা ব্যাপক। সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্প ২০ বছরে একবার হতে পারে। আর ধ্বংসযজ্ঞের এরিয়া ছড়িয়ে যায় অনেকখানি। হাজার হাজার মাইলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে।
মাত্রাঃ ১০·০ বা তার অধিক
এখনও এই মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়নি।
তবে এ ধরণের ঘটনা ঘটতেও পারে। ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ১০·০ বা তার উপরে থাকবে তখন এর ধ্বংসযজ্ঞ ধারণা করাও কঠিন। ভয়াবহ কোনও রূপ নিতে পারে তা।
মাত্রাভেদে ভূমিকম্প
মাইনর ভূমিকম্পঃ ২·০-৩·৯ মাত্রা
লাইট ভূমিকম্পঃ ৪·০-৪·৯ মাত্রা
মডারেট ভূমিকম্পঃ ৫·০-৫·৯ মাত্রা
স্ট্রং ভূমিকম্পঃ ৬·০-৬·৯ মাত্রা
মেজর ভূমিকম্পঃ ৭·০-৭·৯ মাত্রা গ্রেট ভূমিকম্পঃ ৮·০-৯·৯ মাত্রা
এপিক ভূমিকম্পঃ ১০·০ বা তার অধিক
বিভিন্ন মাত্রায় ভূমিকম্পে সৃষ্ট শক্তি
* রিখটার পরিমাপ ০·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ কিলোগ্রাম - যা বড় হ্যানড গ্রেনেড সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ১·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ কিলোগ্রাম-  যা নির্মাণস্থলে বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ১·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ কিলোগ্রাম - যা বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ২·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ মেট্রিক টন - যা শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ৩·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ মেট্রিক টন - চেরনোবিল বিস্ফোরণ, ১৯৮৬।
* রিখটার পরিমাপ ৪·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ কিলোটন -  ছোট পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ সমতুল্য।
* রিখটার পরিমাপ ৫·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ কিলোটন -  নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা, ১৯৪৫।    * রিখটার পরিমাপ ৬·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ মেগাটন -  ডাবল স্প্রিংফ্লাট ভূমিকম্প, ১৯৯৪।
* রিখটার পরিমাপ ৭·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ মেগাটন - জাভা ভূমিকম্প, ২০০৯।
* রিখটার পরিমাপ ৭·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ মেগাটন - কাশ্মির ভূমিকম্প, ২০০৫।
* রিখটার পরিমাপ ৮·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ গিগাটন - সানফ্রান্সিসকো ভূমিকম্প, ১৯০৬।
* রিখটার পরিমাপ ৮·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৫·৬ গিগাটন - সুমাত্রা ভূমিকম্প, ২০০৭।
* রিখটার পরিমাপ ৯·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ৩২·০ গিগাটন -  লিসবোয়া ভূমিকম্প, ১৭৫৫।
* রিখটার পরিমাপ ৯·৩ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১১৪·০ গিগাটন -  ভারত মহাসাগর ভূমিকম্প, ২০০৪।
* রিখটার পরিমাপ ৯·৫ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১৭৮·০ গিগাটন -  চিলি ভূমিকম্প, ১৯৬০।
* রিখটার পরিমাপ ১০·০ হলে ভূকম্পনে সৃষ্ট শক্তি হয় ১·০ টেরাটন - যা এখনও কোথাও ঘটেনি।
ভূকম্পন মাপতে রিখটার স্ড়্গেল-উদ্‌ভাবক বিজ্ঞানী চার্লস রিখটার তার জীবদ্দশায় সারা পৃথিবীজুড়ে ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করেছেন। ভূমিকম্পে ড়্গয়ড়্গতি এবং ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে নানা রকম প্রস্তুতি নিতে উৎসাহ যুগিয়েছেন। আমাদের দেশেও মাত্র কিছুদিন পূর্বে ঘটে গেল ছোট মাপের ভূকম্পন। আর ছোট মাত্রার ভূমিকম্প নাকি বড় ধরনের ভূমিকম্পেরই আশঙ্কা। তবে ছোট হোক বড় হোক আগাম প্রস্তুতি থাকা দরকার সবার।

Thursday, December 23, 2010

HOME LOAN





HOME LOAN
প্রয়োজন যখন
হোম লোন

একটি বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্ট নিজের করে নেওয়ার স্বপ্ন পূরণে নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। অন্যতম একটি চিন্তা থাকে এর আর্থিক যোগান দিতে। বর্তমানে বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্টের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হিসেবে আপনার পাশেই রয়েছে বেশকিছু ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান-  যারা বিভিন্ন শর্তে বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে দিয়ে থাকে হোম লোন। বিভিন্ন মেয়াদে আপনিও শর্ত পূরণ করে পেতে পারেন আপনার বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য হোম লোন। জেনে নিন এমনই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের খবরাখবর-

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন
বাড়ী বা ফ্ল্যাট কিনতে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদের জন্য ১২ শতাংশ সুদ হারে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন। ঋণ গ্রহণের জন্য গ্রহীতাকে বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের নকশার ফটোকপি, জমির সয়েল টেস্ট রিপোর্টের সত্যায়িত কপি এবং সংশিস্নষ্ট বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কাঠামো নকশা কমপড়্গে ৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাজুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ার/ নির্বাহী প্রকৌশলী/ প্রকৌশল পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান কতৃêক ইস্যুকৃত ইমারতের ভার বহনের ড়্গমতা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। ঋণ আবেদনকারীর আয়ের প্রমাণপত্র যেমন-  চাকরির ক্ষেত্রে ঋণ আবেদন ফরমের নির্দিষ্ট পাতায় বেতন সনদ এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও আয় সম্পর্কে হলফনামা, আয়কর পরিশোধযোগ্য আয় হলে আয়কর নির্ধারণী আদেশের সার্টিফায়েড কপি ইত্যাদি অফিসে জমা দিতে হবে।
দরখাস্ত ফি জমা প্রদানের রসিদ (প্রতি হাজারে ৫ টাকা হারে) দিতে হবে। ফরমাল ঋণ আবেদনপত্রের মূল্য ১ হাজার টাকা। এমরটাইজড পদ্ধতিতে সব কিস্তির পরিমাণ সমান হবে। বার্ষিক ১২ শতাংশ হার সুদে ১৫ বছরে পরিশোধ মেয়াদে প্রতি লাখ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ১ হাজার ২০১ টাকা, ১০ বছরের পরিশোধ মেয়াদে প্রতি লাখ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ১ হাজার ৪৩৫ টাকা এবং ৫ বছরে পরিশোধ মেয়াদে প্রতি লাখ টাকার মাসিক কিস্তির পরিমাণ ২ হাজার ২২৫ টাকা। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ জোনাল ম্যানেজার কর্তৃক ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে তার সম্মতিক্রমে ৫ বছর থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত (তবে সবার বেলায় ১৫ বছর মেয়াদ দেওয়া হয় না) নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

ডেল্টা-ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড (ডিবিএইচ)
হাউজিং পস্নট লোনের জন্য ডিবিএইচ-এ বর্তমান সুদের হার ১২-১৩ শতাংশ এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোন ১০.৭৫ শতাংশ এবং সে অনুযায়ী মাসিক কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ডিবিএইচ হাউজিং প্লট লোন এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোনের ফরম যথাযথ পূরণপূর্বক ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ডিবিএইচ কতৃক মূল্যায়নের ভিত্তিতে হাউজিং প্লটের মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং অ্যাপার্টমেন্ট মূল্যেরও সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ডিবিএইচ-এ আপনি হাউজিং প্লট লোনের জন্য ১ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোনের জন্য ১ থেকে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন।সাধারণত এই সময়সীমা গ্রাহকের অবসরপ্রাপ্তির বয়স অথবা ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। তবে ডিবিএইচ আবেদনকারীর সঙ্গে আলোচনা করেই এই ঋণের মেয়াদ নির্ধারিত হয়।
ডিবিএইচ হাউজিং প্লট লোন এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোন অনুমোদনের ক্ষেত্রে মূল মানদণ্ড হলো গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা এবং ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে প্রদেয় সম্পত্তির আইনগত ও কাঠামোগত বৈধতা।
ডিবিএইচ হাউজিং লোন এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোন গ্রহণের ড়্গেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঋণ সংক্রান্ত ফিসের ওপর বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। সকল প্রকার ঋণ সংক্রান্ত ফিস ‘ক্রসড চেক’-এর মাধ্যমে ডিবিএইচ বরাবর পরিশোধ করতে হয়।
ডিবিএইচ থেকে লোন প্রাপ্তির জন্য যে সম্পত্তির বিপরীতে আপনি ঋণ নিচ্ছেন, সেই সম্পত্তিই আপনাকে ডিবিএইচ-এ ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে। তবে ডিবিএইচ-এর কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো সম্পত্তির জামানতের বিনিময়েও আপনি ডিবিএইচ থেকে লোন নিতে পারেন। ডিবিএইচ থেকে লোন গ্রহণের ড়্গেত্রে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির জামানত রেজিস্ট্রি করা অবশ্যক।
ডিবিএইচ ঋণের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে, ইচ্ছা করলে আপনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ডিবিএইচ কতৃক নির্ধারিত শর্তাবলী প্রযোজ্য। সহজ ও দ্রম্নত ডিবিএইচ হাউজিং ও অ্যাপার্টমেন্ট লোন নিয়ে হাজারো পরিবার ইতোমধ্যে গড়ে নিয়েছে তাদের স্বপ্নের ঠিকানা।

HSBC  (Home Loan)
এইচএসবিসি
এইচএসবিসি ব্যাংক শুধু ফ্ল্যাটের জন্য লোন দিয়ে থাকে। লোনের পরিমাণ ফ্ল্যাটের মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ড়্গেত্রে সুদের হার ১১-১২ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে যা সর্বোচ্চ ২০ বছর মেয়াদের জন্য প্রদান করা হয়ে থাকে। এখান থেকে লোন গ্রহণ করতে হলে গ্রাহকের বয়স অবশ্যই ২৫ বছর থেকে বেশি হতে হবে এবং ৫৫ বছর থেকে কম হতে হবে। লোন গ্রহণের জন্য গ্রাহক যদি ব্যবসায়ী হয়ে থাকে তবে তার ব্যবসার সমর্থনে শেষ ৩ বছরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং চাকরিজীবী হলে শেষ ২ বছরের বেতন বিবরণী ব্যাংককে দেখাতে হবে।
শর্ত থাকে যে, ব্যবসায়ীদের ড়্গেত্রে মাসিক উপার্জন সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা এবং চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক উপার্জন সর্বনিম্ন ৪৫ হাজার টাকা হতে হবে। অন্যথায় গ্রাহকের ঋণপ্রাপ্তির যোগ্যতা থাকবে না।

আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড
গ্রাহকদের বাড়ী নির্মাণ, কনস্ট্রাকসন বা তলা বাড়ানো এবং ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য লোন দিয়ে থাকে আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড। এ ড়্গেত্রে আইডিএলসি গ্রাহকদের দুই ধরনের সুদের হার প্রস্তাব দিয়ে থাকে। একটি ‘ফিক্সড’ এবং অন্যটি ‘ভেরিয়েবল’। ফিক্সড-এর ক্ষেত্রে সুদের বর্তমান হার ১৩.৫০ শতাংশ এবং ভেরিয়েবল-এর ক্ষেত্রে বর্তমান সুদের হার ১০.৯৯ শতাংশ। ফিক্সড-এর ক্ষেত্রে সুদের হার পরবর্তী সময়ে বাড়লেও গ্রাহক ওই পরিমাণ সুদই দিতে থাকবে। আর ভেরিয়েবল-এর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সুদের পরিমাণ বাড়লে বা কমলে তখন গ্রাহক ওই পরিমাণ সুদ দিতে বাধ্য থাকবে।
আইডিএলসি লোনের ফরম যথাযথ পূরণ করে আপনার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা আইডিএলসি কতৃক মূল্যায়নের ভিত্তিতে আপনাকে হাউজিং পস্নট বা অ্যাপার্টমেন্ট মূল্যের সর্বোচ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। আপনি সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন। সাধারণত এই সময়সীমা গ্রাহকের অবসরপ্রাপ্তির বয়স অথবা ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। আইডিএলসি লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১জ্ঝ৫ শতাংশ এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ প্রযোজ্য। যে সম্পত্তির বিপরীতে আপনি ঋণ নিচ্ছেন, সেই সম্পত্তিই আপনাকে আইডিএলসিতে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেড
গ্রাহকগণ হাউজিং লোন পেতে পারেন পূবালী ব্যাংক থেকেও। এ ক্ষেত্রে সুদের হার ১৩ শতাংশ যা প্রত্যেক তিন মাস পর পর হিসাব করা হয়। আপনার ঋণ পরিশোধের ড়্গমতা পূবালী ব্যাংক কতৃক গোপনে মূল্যায়নের ভিত্তিতে আপনাকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদে প্রদান করা যেতে পারে। এই সময়সীমা গ্রাহকের অবসরপ্রাপ্তির বয়স অথবা ৬০ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। পূবালী ব্যাংকে লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১ শতাংশ এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ।

Standered Chartered Bank
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে হাউজিং লোন এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোনের জন্য হাউজিং বা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত  দেওয়া হয়ে থাকে। তবে হাউজিং লোনের ক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, শুধু বাড়ির প্রথম তলার ছাদ হওয়ার পর থেকে লোন গ্রহণ করা যাবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর। ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার বর্তমানে ১.৫ শতাংশ এবং সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য।
ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে যে সম্পত্তির বিপরীতে আপনি ঋণ নিচ্ছেন, সেই সম্পত্তিই আপনাকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাছে রাখতে হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ঋণের সুবিধা হচ্ছে একমাত্র এই ব্যাংকই গ্রাহককে উক্ত সম্পত্তির বিপরীতে ‘ইন্স্যুরেন্স’ সুবিধা দিয়ে থাকে। যেখানে ঋণগ্রহীতার মৃত্যুর পরও তার মাসিক কিস্তি ইন্স্যুরেন্সের মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া হয়।
ফিডেলিটি অ্যাসেট অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড
এ প্রতিষ্ঠান থেকে হোম লোনের জন্য আপনি বাড়ী নির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য মোট ক্রয়মূল্যের ৭০ শতাংশ বা ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন। ঋণের সুদের হার ১৭ শতাংশ, প্রসেসিং ফি ১ শতাংশ এবং অন্য যাবতীয় খরচ একচুয়াল হবে। আর সব ক্ষেত্রেই আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে।

Brack Bank
ব্র্যাক ব্যাংক
বর্তমানে সবচেয়ে কম হারের সুদে হাউজিং এবং অ্যাপার্টমেন্ট লোন দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। সুদের পরিমাণ ৯.৮ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে, যা ২০ বছর মেয়াদ পর্যন্ত পরিশোধযোগ্য। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বয়সসীমা ৫৫-৫৮ হয়ে থাকে। ব্র্যাক ব্যাংকে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১৫ লাখ টাকার নিচে হলে ১.৫ শতাংশ এবং ১৫ লাখ টাকার ওপর হলে ১ শাতংশ।

Lanka Bangla Finance
লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্স লিমিটেড
লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্স লিমিটেড থেকে নতুন বাড়ী নির্মাণ, ফ্ল্যাট ক্রয় এবং বাড়ী সংস্ড়্গরণ বা বাড়ীর তলা বাড়ানোর জন্য ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। ঋণ পরিশোধের ড়্গমতা লঙ্কা বাংলা কতৃক মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে প্লট বা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্যের সর্বোচ্চ ৬৫ শতাংশ ঋণ দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রযোজ্য সুদের হার ১৩ শতাংশ এবং সে অনুযায়ী মাসিক কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। লঙ্কা বাংলা বাড়ী নির্মাণ বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর এবং বাড়ী সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের মেয়াদ দিয়ে থাকে। যদি গ্রাহকের মাসিক আয় সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা হয়ে থাকে এবং গ্রাহকের নামে অন্য কোনো বাড়ী বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই এবং গ্রাহক যদি এর আগে কোনো ব্যাংক বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ী নির্মাণ বা অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়ের জন্য লোন না নিয়ে থাকে তবেই উক্ত গ্রাহককে লঙ্কা বাংলা লোন দিয়ে থাকে। লঙ্কা বাংলা ফিন্যান্স লিমিটেডের লোন গ্রহণের ড়্গেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১ শতাংশ এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ। অবশ্যই যে সম্পত্তির বিপরীতে আপনি ঋণ নিচ্ছেন, সেই সম্পত্তিই আপনাকে লঙ্কা বাংলার কাছে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে। লঙ্কা বাংলার লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির জামানত রেজিস্ট্রি করা আবশ্যক।

Prime Bank Ltd.
প্রাইম ব্যাংক
প্রাইম ব্যাংকে হোম লোনের বর্তমান প্রযোজ্য সুদের হার ১৩ শতাংশ। আপনার ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা প্রাইম ব্যাংক কতৃক মূল্যায়নের ভিত্তিতে আপনাকে বাড়ী নির্মাণের জন্য কনস্ট্রাকশনের জন্য ৬০ শতাংশ এবং ফ্ল্যাটের ক্রয়মূল্যের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আপনাকে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। বাড়ী নির্মাণের জন্য আপনাকে অবশ্যই কমপড়্গে এক তলা পর্যন্ত করতে হবে নতুবা ব্যাংক আপনাকে ঋণ সুবিধা দেবে না। প্রাইক ব্যাংক গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। সাধারণত এই সময়সীমা গ্রাহকের অবসরপ্রাপ্তির বয়স অথবা ৬৫ বছর বয়স অতিক্রম করবে না। গ্রাহকের বয়স যদি ৫৫ বছর হয়ে থাকে তাহলে ব্যাংক তাকে ১০ বছরের মেয়াদে আর গ্রাহকের বয়স যদি ৫০ বা তার নিচে হয়ে থাকে তবে ব্যাংক তাকে ১৫ বছরের মেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে থাকে। প্রাইম ব্যাংকে লোন গ্রহণের ড়্গেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য ঋণ সংক্রান্ত ফিসের হার ১ শতাংশ এবং রিস্ক পয়েন্ট ০.৫ শতাংশ। গ্রাহক যদি ব্যবসায়ী হয়ে থাকে তাহলে তার ব্যবসার সমর্থনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ব্যাংক বিবরণী ইত্যাদি এবং যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে তাহলে তাকে কোনো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির বিগত ২-৩ বছরের বেতন বিবরণী দেখাতে হবে। আপনি প্রাইম ব্যাংক হোম অথবা ফ্ল্যাট যে জন্য লোন নিয়ে থাকেন না কেন মাসিক কিস্তির পরিমাণ একই থাকবে। প্রতি লাখের বিপরীতে ১০ বছরের জন্য ১ হাজার ৪৬৮ টাকা এবং ১৫ বছরের জন্য ১ হাজার ২৬৬ টাকা মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

IFIC Bank Ltd.
আইএফআইসি ব্যাংক
আপনি যদি নতুন ফ্ল্যাট ক্রয় করতে চান বা আপনার বাড়ী সংস্কার বা তলা বাড়াতে চান তাহলে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন। হোম লোন মোট কনস্ট্রাকশনের খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। এই ঋণের হার ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্যও প্রযোজ্য। সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক আপনাকে সুবিধা দেবে। ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর পর্যন্ত এবং ঋণগ্রহীতার বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হবে না। ঋণের সুদ ১৩ শতাংশ, প্রসেসিং ফি ১ শতাংশ এবং সার্ভিস চার্জ ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আপনি যদি ফ্ল্যাটের জন্য ২৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন তাহলে মোট ১৮০ মাসের কিস্তির পরিমাণ হবে ৩১ হাজার ৭১০ টাকা আর যদি আপনি বাড়ী নির্মাণের জন্য ৩৫ লাখ গ্রহণ করেন তাহলে মোট ১২০ মাসের কিস্তির পরিমাণ হবে ৫৭ হাজার ৩১০ টাকা। সবক্ষেত্রেই আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে।

Eastern Bank Ltd.
ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড
বাড়ীর কনস্ট্রাকশন ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য আপনি ইচ্ছা করলে ইস্টার্ন ব্যাংক থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। এই ড়্গেত্রে আপনার বাড়ীর জন্য কমপক্ষে এক তলা পর্যন্ত নির্মাণ করার পর ঋণ আবেদন করা যাবে। ঋণের পরিমাণ হবে বাড়ীর কনস্ট্রাকশন খরচের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ। এই ঋণের হার নতুন ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্যও প্রযোজ্য। যা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্তও হতে পারে। অর্থাৎ ব্যাংক আপনাকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। তবে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সামর্থের ওপর। ঋণের সুদ ১০.৫০ শতাংশ, প্রসেসিং ফি ১.২৫ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সর্বোচ্চ ২০ বছর। আর সব ক্ষেত্রেই আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে।

Duch-Bangla Bank Ltd.
ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড
ডিবিবিএল-এ হোম লোনের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা। যদি নতুন ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য লোন নেয়া হয়ে থাকে এ ড়্গেত্রে ফ্ল্যাটের বিপরীতে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রাদি দেখাতে হবে। আর যদি বাড়ী নির্মাণের জন্য লোনের আবেদন করা হয়ে থাকে তাহলে গ্রাহককে কমপক্ষে বাড়ীর এক তলা ফাউন্ডেশন করতে হবে নতুবা ব্যাংক গ্রাহককে ঋণ সুবিধা দেবে না। ঋণের সুদের হার ১৩ শতাংশ, প্রসেসিং ফি ০.৫০ শতাংশ এবং অন্য খরচগুলো একচুয়াল হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১৫ বছর। গ্রাহক যদি ব্যবসায়ী হয়ে থাকে তাহলে তার ব্যবসার সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আর যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকে তাহলে তার বেতন বিবরণী ব্যাংককে দেখাতে হবে। গ্রাহকের বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হবে না। আর সব ক্ষেত্রেই আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি এবং সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে ঋণের জামানত হিসাবে রাখতে হবে।
সূত্রঃ ২০০০